টেলিগ্রাম অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভকে প্যারিসের একটি আদালতে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল সোমবার এই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি আদালত ভবন ত্যাগ করেন। তবে সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য না করে চুপিসারেই বেরিয়ে যান তিনি। রুশ বার্তা সংস্থা তাস–এর একজন প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৪০ বছর বয়সি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা দুরভের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। অভিযোগ, টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মে অবৈধ কনটেন্ট ছড়াতে সহায়তা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে তাঁকে নাটকীয়ভাবে প্যারিসে আটক করা হয়।
গত সোমবার দুরভ চারজন আইনজীবীসহ আদালতে হাজির হন। এটি ছিল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে তৃতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদ। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রকে সহায়তা, প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেআইনি লেনদেন, শিশু নিপীড়নের ছবি এবং অবৈধ কনটেন্ট ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া। তবে দুরভ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুনানি শেষে তাঁর আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, “আজকের পূর্ণদিবসের জিজ্ঞাসাবাদে দুরভ এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা অভিযোগগুলোর ভিত্তিহীনতা স্পষ্ট করে।”
এর আগেও, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুরভ দাবি করেন, তিনি কখনোই টেলিগ্রামকে বেআইনি কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করেননি। তবে প্ল্যাটফর্মে অপরাধমূলক কার্যক্রম বেড়েছে বলে স্বীকার করেন এবং কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে টেলিগ্রামের সহযোগিতা অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। এতে সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে চলমান তদন্তে সুবিধা মিলছে। প্রথমে তাঁর ওপর ফ্রান্স ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও জুলাইয়ের শুরুতে তা আংশিক শিথিল করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রতি সফরে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করার অনুমতি পাচ্ছেন।
এদিকে, দুরভের আইনজীবীরা অভিযোগ এবং তদন্ত কার্যক্রমকে ইউরোপীয় ও ফরাসি আইনের লঙ্ঘন বলে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তারা ফ্রান্সে মামলার সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই চেয়ে একটি আবেদন করেছেন এবং একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালতে প্রাথমিক রায় চেয়ে আরেকটি আবেদন জমা দিয়েছেন।

