এই বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লকেট গলায় ঝুলিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী রুচি গুজ্জার। এবার তিনি একেবারে ভিন্ন কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি সিনেমা হলে ‘সো লং ভ্যালি’ ছবির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে রুচি গুজ্জার ও প্রযোজক করণ সিং চৌহান ও অভিনেতা মান সিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রুচি প্রকাশ্যে প্রযোজক করণ ও অভিনেতা মানের ওপর জুতাপেটা করেন। একই সঙ্গে তিনি পরিচালককে উদ্দেশ করে পানি বোতলও ছুঁড়ে মারেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানা যায়, পরিচালক ও সিনেমার অন্যতম প্রযোজক মান সিং রুচি গুজ্জারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন। তার দাবি, রুচি পরিকল্পিতভাবে ‘সো লং ভ্যালি’ ছবিটির সুনাম নষ্ট করতে চেয়েছিলেন। মান সিং বলেন, ‘রুচির উদ্দেশ্য ছিল ছবির প্রচার এবং সফলতায় বাধা দেওয়া।’ এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সিনেমার তিন প্রযোজকের একজন করণ চৌহানের সঙ্গে রুচির আর্থিক লেনদেন নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। প্রযোজকরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রুচি করণ চৌহানকে ব্যক্তিগতভাবে ২০-৩০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না পাওয়ায় রুচি ক্ষুব্ধ হন। এরপর তিনি ছবির অন্য শিল্পীদের ছবিটি ত্যাগ করার জন্য চাপ দেন এবং মুক্তি বন্ধ করতে আদালতে আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেয়। কারণ, রুচির সঙ্গে ছবির প্রযোজনার কোনো লিখিত চুক্তি ছিল না।
প্রিমিয়ারের দিন রুচির আচরণ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। জানা যায়, তিনি নিজের একটি দল নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, তারা প্রযোজকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। মান সিং এই ঘটনা ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে অভিহিত করেছেন।
রুচি গুজ্জারও চুপ ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, প্রযোজকরা তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন একটি টেলিভিশন শো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু সেই অর্থ ছবির প্রযোজনায় ব্যয় করা হয়েছে। রুচির আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিনেত্রী আম্বোলি থানায় প্রযোজকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, করণ চৌহানের নামে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি টিভি শো তৈরির নামে রুচির কাছ থেকে ২৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন যা এখনও ফেরত দেননি। সিনেমা জগতের অনেকেই এই ধরনের ঘটনা প্রিমিয়ারের মতো গ্ল্যামার-ভিত্তিক অনুষ্ঠানের মর্যাদা নষ্ট করার মতো এবং পুরো ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর বলে মনে করেন।

