রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (৩০ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য হলেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন ছয় আসামিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। আদালতে পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের খরচে নিযুক্ত চারজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। পাঁচজনের হয়ে বক্তব্য দেন আইনজীবী সুজাত মিয়া। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুনুর রশীদ। এছাড়া শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম।
এর আগে, ২৯ জুলাই শুনানি হয় তিন আসামির পক্ষে। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, কনস্টেবল সুজনের পক্ষে আজিজুর রহমান দুলু এবং ছাত্রলীগ নেতা আকাশের পক্ষে সালাহউদ্দিন রিগ্যান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনজনেরই অব্যাহতির আবেদন জানান তারা। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম, মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
এর আগে, ২৮ জুলাই ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী শুনানি হয়। সে দিন আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও মঈনুল করিম।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, ২২ জুলাই পলাতক ২৪ আসামির জন্য রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। একই দিনে অভিযোগ শুনানির জন্য ২৮ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ৩০ জন আসামির মধ্যে এখনও ২৪ জন পলাতক। এদের বিরুদ্ধে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তবুও আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিচার পলাতক হিসেবেই চলবে।
পলাতক আসামিদের মধ্যে যারা আইনজীবী নিয়োগ দেননি, তাদের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল জানতে চেয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪ পলাতকের জন্য চারজন স্টেট ডিফেন্স নিযুক্ত হয়েছেন, অর্থাৎ ছয়জন করে এক আইনজীবী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, ১৩ জুলাই এ মামলার গ্রেপ্তার আসামি রাসেল ও পারভেজকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পলাতকদের গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশও দেন আদালত।
গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এর আগে, ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

