সুপ্রিম কোর্টে পৃথক সচিবালয় গঠনের পরও আইন ও বিচার বিভাগে প্রশাসন ক্যাডারের ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, অধস্তন আদালতে বিচারকদের নতুন পদ সৃষ্টির জন্য গঠন করা হবে পৃথক কমিটি। এমন বিধান রেখে গত সোমবার রাতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা ২০২৫ এবং আইন ও বিচার বিভাগে পদায়ন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন দুটি জারি করা হয়।
নতুন বিধিমালার ৪ ধারায় বলা হয়েছে, আইন ও বিচার বিভাগে সহকারী সচিব থেকে শুরু করে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ২৫ শতাংশ পদে নিয়োগ পাবেন। বাকি ৭৫ শতাংশ পদ জুড়ে থাকবেন জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা। তবে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বাসা) সভাপতি ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের সঠিক বাস্তবায়ন চাই। রায়ে স্পষ্ট বলা আছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রশাসনিক কাজ থেকে আলাদা থাকবে। বিষয়টি আইন কমিটি খতিয়ে দেখছে।”
অন্যদিকে, জুডিশিয়াল সার্ভিস সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ২০০৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দুটি রায়ে বিচার বিভাগীয় পদে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের নিয়োগ বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে। এই ভিত্তিতে নতুন বিধিমালা হয়েছে। সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নিয়ে এ বিধিমালা অনুমোদন দেন। পাশাপাশি ২০০১ সালের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রথম শ্রেণির নিয়োগ বিধিমালা বাতিল করা হয়।
সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু বলেন, “সুষ্ঠু বিচার প্রশাসনের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রয়োজন। এখানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের থাকা অনুচিত। মাসদার হোসেন রায়েও বলা আছে, প্রশাসনের সঙ্গে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা মিশতে পারবেন না।” জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম জানান, নতুন বিধিমালার মাধ্যমে অধস্তন আদালতে বিচারিক পদ সৃষ্টিতে যে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা ছিল, তা দূর হবে।
নিম্ন আদালতে বিচারকের নতুন পদ সৃষ্টির জন্য গঠন করা হবে একটি পদ সৃজন কমিটি। এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। তাঁর সঙ্গে থাকবেন আপিল বিভাগের আরও একজন, হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন বিচারপতি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব বা জ্যেষ্ঠ সচিবরা। কমিটির সুপারিশই হবে চূড়ান্ত। সেই অনুযায়ী আইন ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্রপতির কাছে সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে চূড়ান্ত আদেশ জারি করবে। এর আগে ২০০৭ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রথম জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা জারি করা হয়েছিল।
বিচারিক পদের সহায়ক জনবল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নির্ধারণে আইন ও বিচার বিভাগ প্রস্তাব পাঠাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগে। পাশাপাশি সার্ভিসের প্রশাসনিক পদও একইভাবে গঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে বিচারিক পদ সৃজন কমিটির পরামর্শ মেনে আদর্শ কাঠামো নির্ধারণ করে আদেশ জারি করা হবে।
নতুন বিধিমালায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, তফসিলে উল্লিখিত সব পদই হবে জুডিশিয়াল সার্ভিসের ক্যাডার পদ। ২০০৭ সালের বিধিমালায় এ ধরনের নির্ধারণ ছিল না। বর্তমানে জুডিশিয়াল সার্ভিসে মোট পদসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,১৩৩টি। এর মধ্যে ২,০০০টি বিচারিক কার্যক্রমে, ১৩৩টি প্রশাসনিক কাজে। ছুটি, প্রেষণ ও প্রশিক্ষণের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পদ। সুপ্রিম কোর্টে পৃথক সচিবালয় গঠনের পর প্রশাসনিক পদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

