পানামার সুপ্রিম কোর্টে দুটি মামলা দায়ের করেছেন দেশটির মহাহিসাবনিরীক্ষক আনেল বোলো ফ্লোরেস। হংকংভিত্তিক সিকে হাচিসনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্টস কোম্পানিকে দেওয়া বন্দর ইজারা বাতিলের দাবি জানিয়ে এই মামলা করেন তিনি।
আনেল বোলো ফ্লোরেস বলেন, “এই ইজারা প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম রয়েছে এবং এটি দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।”—এমন তথ্য উঠে এসেছে ওয়ার্ল্ড কার্গো নিউজের প্রতিবেদনে। তিনি জানান, গত এপ্রিল প্রকাশিত এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চুক্তির নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। ইজারার শর্তগুলো ছিল পানামার জন্য অসম এবং দরকষাকষিতেও ছিল পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত।
পিপিসি ২৫ বছরের এক ইজারা চুক্তির আওতায় পানামা খালের দুই প্রান্ত—বালবোয়া ও ক্রিস্টোবাল বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করে আসছে। এই চুক্তি নবায়ন করা হয় ২০২১ সালে। তবে মহাহিসাবনিরীক্ষকের দপ্তরের মতে, এই নবায়ন আইনি অনুমোদন ছাড়াই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, করছাড়সহ ১৯৯৭ সালের মূল চুক্তির বিভিন্ন সংশোধনী মিলিয়ে দেশটির প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩০ কোটি ডলার) রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। মামলাগুলো মূলত টার্মিনাল পরিচালনার ইজারা নিয়ে হলেও এর ফলে হাচিসনের বন্দর পরিচালনার বৈধতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে এই আইনি পদক্ষেপ হাচিসনের বন্দর বিক্রির পরিকল্পনায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তার বৈশ্বিক বন্দর ব্যবসার বড় একটি অংশ বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্ল্যাকরক নেতৃত্বাধীন এক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত ২২.৮ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিতে পিপিসির দুই টার্মিনালই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পানামা খাল ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক দফায় পানামাকে হুমকি দিয়েছিলেন। এরই প্রেক্ষাপটে হাচিসন তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার পর থেকেই হাচিসন চীনে সমালোচিত হতে থাকে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এখনো আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি চীনের মূল ভূখণ্ডের কৌশলগত বিনিয়োগকারীদেরও আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অংশগ্রহণ সরকারি চাপের মুখে নেওয়া কৌশলগত ছাড় হতে পারে।

