কর্ণাটকের আদালত ভারতের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সাবেক এমপি প্রজ্বল রেভান্নাকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি রেভান্না তার গৃহকর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এই শাস্তি পান।
গতকাল শনিবার (২ আগস্ট ২০২৫) কর্ণাটকের একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করে। তার একদিন আগে শুক্রবার আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী রেভান্না কর্ণাটকের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। ২০২৩ সালে শত শত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। এসব ভিডিও দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আরও কিছু নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ পেলে তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছেড়ে পালান। রেভান্নার অফিসের একজন কর্মকর্তা দাবি করেন, ভিডিওগুলো নকল বা সাজানো। তবে তিনি নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এক মাস পর জার্মানি থেকে ফিরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রেভান্না সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শুক্রবার তিনি আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শাস্তি কমানোর অনুরোধ করেন। তবে আদালত তার আবেদন নাকচ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয়। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
রেভান্না সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি। দেবেগৌড়ার দল জনতা দল (সেক্যুলার) বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির মিত্র। ভারতের মতো দেশে এত প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের কোনো সদস্যের এভাবে সাজা পাওয়া বিরল ঘটনা।
রেভান্নার বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণ মামলা ও একটি যৌন হয়রানির মামলা চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন। এই রায় ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই ঘটনা দেশে নারী নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

