রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ বুধবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেবেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। এর আগে, গত ৩০ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে ৬ আগস্ট আদেশের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
আদালতের তিন বিচারকের মধ্যে আরও রয়েছেন—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। সেদিন পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন চারজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী। এর মধ্যে পাঁচজনের পক্ষে ছিলেন সুজাত মিয়া এবং ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুনুর রশীদ। আরও শুনানি করেন ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম, মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
গত ২৮ জুলাই ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উপস্থাপন করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে শুনানি। এর আগে, ২২ জুলাই পলাতক ২৪ আসামির জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই দিনে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৮ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ২৪ জন এখনও পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে তারা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিচার পলাতক আসামি হিসেবেই চলবে। গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে দুইজন এখনো আইনজীবী নিয়োগ দেননি। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে।
এর আগে, ১৩ জুলাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেক মামলায় গ্রেপ্তার রাসেল ও পারভেজকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে পলাতক ২৪ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়।
গত ৩০ জুন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে, ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় প্রসিকিউশনে। মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

