ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৫৫ হাজার ৮৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর গোপনীয় তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব তথ্য পাঠানো হয়েছে ‘সাবলাইন লিমিটেড’ নামের এক প্রতিষ্ঠানে, যার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আপেল মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলার বাদী কোম্পানির বর্তমান আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন। তিনি ৪ আগস্ট শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ১৯, ২১ ও ২২ ধারায় মামলা করেন। কোম্পানির বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম জানান, সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সময়ে ‘সাবলাইন লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানে তথ্য পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘সাবলাইন’ নামে কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব নেই। তাঁর ভাষায়, “দেশি-বিদেশি কারও কাছেও তথ্য বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এখন এ বিষয়টি ধরা পড়েছে।”
এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আপেল মাহমুদ বর্তমানে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য। ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি এ পদে নিয়োগ পান। অপর দুই অভিযুক্ত হলেন—তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লোকমান ফারুক এবং সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ওসমান গনি। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা ২০২৪ সালের ২৭ মে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ৫৫ হাজার ৮৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল নম্বর, বেতন-ভাতা ও পরিচিতি নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সাবলাইন লিমিটেডসহ দেশি-বিদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। এতে কর্মীদের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পুরোনো পর্ষদ বাতিল করে নতুন ১০ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মো. রহমত উল্লাহ চেয়ারম্যান হন। নতুন পর্ষদে ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম (ঢাবির শিক্ষক) ও মোজাম্মেল হক (একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক)।
পরে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আবার পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। যুক্ত হন বেক্সিমকোর দুটি প্রতিষ্ঠানের মনোনীত প্রতিনিধি, এর মধ্যে ছিলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ। আরও ছিলেন প্রফেসর লাফিফা জামাল, বিএসইসির সাবেক কমিশনার আরিফ খান ও সংস্কৃতিসচিব ইব্রাহিম হোসেন খান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবির হোসেন চেয়ারম্যান হন। তথ্য পাচারের ঘটনাটি তাঁর সময়েই ঘটে। তিনি ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর একে একে অন্য সদস্যরাও সরে দাঁড়ান।
আইডিআরএ সদস্য আপেল মাহমুদ দাবি করেন, “তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তেই ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সাবলাইন লিমিটেডকে তথ্য দেওয়া হয়।” তবে মামলা দায়েরকারী আইন কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, “পর্ষদের এমন কোনো সিদ্ধান্তের লিখিত প্রমাণ আমরা পাইনি। যদি প্রমাণ দেওয়া যায়, তাহলে সাবেক সিইওর দায় কিছুটা কমে যাবে।”

