ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ২ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস টিভি বাংলার মালিক সাইফুল কবিরের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (ঢাকা-১) থেকে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। সাইফুল কবির খন্দকার ট্রেডিং কর্পোরেশন ও পদ্মা ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজেরও মালিক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন।
প্রথম মামলা: ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার জালিয়াতি প্রথম মামলায়, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক দিলকুশা শাখা থেকে সিসি (হাইপো) ঋণ হিসেবে ১ কোটি টাকা এবং এলটিআর ঋণ হিসেবে ৩৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৩ টাকা—মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় সাইফুল কবির ছাড়াও আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মো. হাসান ফারুক, মো. রাজিব দরজি ও মুহাম্মদ রেজাউল হক রেজা।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে বন্ধক রাখা সম্পত্তির মূল দলিল জমা না দিয়ে কেবলমাত্র সার্টিফায়েড কপি জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। এছাড়াও তারা বন্ধকী সম্পত্তি অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রাখা হয়েছিল—এই তথ্য গোপন করে প্রতারণা করেন।
দ্বিতীয় মামলা: উত্তরা ব্যাংক থেকে ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ
অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় উত্তরা ব্যাংকের সাতমসজিদ রোড শাখা থেকে ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় সাইফুল কবির ছাড়াও অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক এবং মো. হাসান উল মামুন।
এই মামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রতারণার প্যাটার্ন অনুসরণ করা হয় বলে দুদকের অভিযোগ। সম্পত্তি বন্ধক রাখা হলেও মূল দলিল না দিয়ে শুধুমাত্র সার্টিফায়েড কপি জমা দিয়ে ঋণ উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি বন্ধকী সম্পত্তি অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই বন্ধক রাখা হয়েছিল—এ তথ্যও গোপন রাখা হয়।
দুদক জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-এর ৫(২) ধারায় মামলা দুটি রুজু করা হয়েছে।

