চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চাকরির প্রলোভনে এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং পরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গণধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক হলেন—আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পারুয়াপাড়ার এনামুল হক ওরফে রিপন (২৭) এবং বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের মো. সাইফুদ্দিন (৩৪)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের এক তরুণী সম্প্রতি চাকরির সন্ধানে চট্টগ্রামে আত্মীয়ের বাসায় আসেন। ৪ আগস্ট সকালে কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এনামুল তাকে বিভিন্ন কারখানায় ঘোরান। পরে তিনি তরুণীকে আনোয়ারার বোয়ালিয়া এলাকায় একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
সন্ধ্যায় একটি পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে তরুণীকে ধর্ষণ করে এনামুল। পরে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে রাতটা ওই এলাকায় থাকার জন্য চাপ দেন।
পরদিন ৫ আগস্ট ভোরে শহরে ফেরার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আরও চারজন ব্যক্তি ওই তরুণীকে একই ঝুপড়িতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করা গেলেও বাকিরা এখনও অজ্ঞাত।
তরুণী চিৎকার শুরু করলে এবং ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে এনামুলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর অভিযান চালিয়ে সাইফুদ্দিনকেও আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আনোয়ারা থানার ওসি জানান, “৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা পাচ্ছেন। অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

