ভবানীপুরের রাস্তায় এখনও রক্ত শুকায়নি। বাতাসে কাঁচা রক্তের গন্ধ। চারপাশে আতঙ্কে জমে থাকা মানুষের মুখ। কয়েক ঘণ্টা আগে এখানেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে। তিনি ছিলেন দৈনিক প্রতিদিন পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি। গতকাল শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এখনো কাঁপিয়ে দিচ্ছে এলাকাবাসীর মন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলের দিকে কয়েকজন যুবক হঠাৎ তুহিনের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পরে গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। কেউ চিৎকার করলেও, ভয়ে কেউ কাছে যেতে পারেনি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার রবিউল হাসান জানান, সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে প্রথমে ধরা হয়। তারা হলেন—ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী বেগম, স্বাধীন, আল আমিন ও সুমন। এর মধ্যে ফয়সালসহ তিনজনকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর থেকে, আল আমিনকে রাজধানীর উত্তরার তুরাগ এলাকা থেকে এবং স্বাধীনকে হোতাপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে মামলার অন্য দুই আসামিকে ধরা হয় ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা এলাকা থেকে। তারা হলেন—পাবনার পাচবাড়িয়ার বাসিন্দা ও ভাড়াটিয়া মো. ফয়সাল হাসান (২৩) এবং কুমিল্লার হোমনা থানার বাসিন্দা মো. শাহ জালাল (৩২)। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া সাতজনের বিরুদ্ধেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তবে নেপথ্যের কারণ ও প্ররোচনাকারীদের চিহ্নিত করতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, তুহিন ছিলেন নির্ভীক সাংবাদিক। তিনি নিয়মিত স্থানীয় অপরাধ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবেদন করতেন। এই সাহসী সাংবাদিকতার কারণেই তার শত্রু তৈরি হয়েছিল। “তুহিন ভাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখতেন। অনেকেই তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল,” বলেন এক প্রতিবেশী।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই দাবি করছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা আছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে অবস্থিত সিপিএসসিতে (CPSC) সংবাদ ব্রিফ করবেন র্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার এসপি কে এম এ. মামুন খান চিশতী।

