জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন থেকে প্রায় ছয় মাস পর। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা আসার পর থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি তীব্র হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা প্রস্তুতি নিচ্ছে, পুলিশও দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালনকারী উপপরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপপরিদর্শকদের (এএসআই) ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ের এসব কর্মকর্তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, আত্মীয়তার সম্পর্ক, পারিবারিক তথ্য এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানদের এসব তথ্য তালিকা আকারে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) একটি ভেটিং ফরম জারি করেছে। এতে ১৬টি প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মস্থল, মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরবাড়ির তথ্য, আত্মীয়দের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, অতীতের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পদ আছে কি না, ৫ আগস্টের আগে ও বর্তমান কার্যক্রম, অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য ইত্যাদি।
এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নিজ জেলা থেকে সংগ্রহ করে ১০ আগস্টের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন ডিএমপির ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীর। জেলা পুলিশের ডিএসবিকে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, তথ্য যাচাই শেষে একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। এরপর কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন করা হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনকালে পুলিশকে নিরপেক্ষ রাখতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংযোগ যাচাই জরুরি। অতীতে নিজ এলাকায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এবার শুরু থেকেই যাচাই করা হচ্ছে যাতে দায়িত্ব বণ্টনে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
তবে মাঠপর্যায়ের কিছু পুলিশ সদস্য মনে করছেন, প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। খুলনা রেঞ্জের এক এসআই বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যেমন ভেটিং করে আমাদের বদলি করেছিল, এখনো তেমনটা শুরু হয়েছে।” অতীতে বিরোধী দল ও বিভিন্ন মহল অভিযোগ করেছে, এমন তালিকা তৈরি হয় ক্ষমতাসীন দলের সুবিধার জন্য।
বিরোধী দলের সহানুভূতিশীল হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দাবি করেন, এটি নিয়মিত প্রস্তুতির অংশ। নির্বাচনসহ যেকোনো বড় দায়িত্বের আগে ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা হয় যাতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হবে। গত বুধবার জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে এ পদায়ন হবে। তফসিলের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বদলি বা পদায়ন হতে পারে।

