রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ৮৭৮ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে গ্রুপের সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রংধনু গ্রুপের ১৩টি ব্যাংক হিসাব এবং যমুনা ফিউচার পার্কের ১ লাখ বর্গফুট কমার্শিয়াল স্পেস আদালতের আদেশে ক্রোক করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রংধনু বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করে তা বিক্রি করত। এরই এক ঘটনা ২০২২ সালের ৮ মার্চ ঘটে। রফিকুল ইসলামের ছেলে কাউসার আহমেদ অপু ও মেহেদী হাসান দিপু পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির কাছে ৭ দশমিক ৫৭৫১ একর জমি বিক্রি করেন।
তারপর ওই জমির ৬ দশমিক ৩৩৭৫ একর অংশ ২০২২ সালের ১ জুন ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি লিমিটেডের কাছে পুনরায় বিক্রি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে ৫৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা আয় করা হয়।
অভিযুক্তরা বালুভরাটে ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৭০ কোটি টাকা ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। একইভাবে, ইসলামী ব্যাংক বারিধারা শাখা থেকে ভুয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেখিয়ে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে তারা। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ অবৈধ অর্থ পাচারের মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম অ্যান্টিগা ও বারবুডার নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। ওই দেশের বিনিয়োগ স্কিমে ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব পাওয়া হয়।

