ব্যাংক এশিয়ার ৪৮০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির মামলায় আমান গ্রুপের চার পরিচালককে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকার অর্থঋণ আদালত–৫। গত বৃহস্পতিবার বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, মো. তৌফিকুল ইসলাম ও মো. তরিকুল ইসলাম। তারা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সে জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপারকে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক এশিয়া আমান গ্রুপের ঋণখেলাপি সমস্যা মেটাতে ঢাকার অর্থঋণ আদালতে মোট ৭টি মামলা করেছে। এর মধ্যে গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানির নামে দায়ের করা মামলায় দুই পক্ষের শুনানি শেষে চারজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
আমান গ্রুপ ঋণ পরিশোধে কয়েক দফা পুনঃতপশিল সুবিধি নিয়েও দেনা পরিশোধ করেনি। এজন্য তারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। আদালত অনুমতি ছাড়া তারা যেন দেশ ছাড়তে না পারেন, তাই এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। একই দিনে, ইউসিবির দায়ের করা অপর মামলায় ঢাকা অ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম জাকারিয়া হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আমান গ্রুপের মালিকানায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান ফিড মিলস, আমান কটন ফাইবার্স, আমান টেক্স, আমান সিমেন্ট মিলস ও আমান ট্রেডিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে প্রতারণার মামলায় গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও তৌফিকুল ইসলাম জেল খেটেছিলেন। তারা যমুনা ব্যাংকের রাজশাহী শাখা থেকে মেসার্স আরএসএন্ডটি ইন্টারন্যাশনালের নামে ৮৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের বিপরীতে ১১৩ শতক জমি বন্ধক রাখা হলেও জালিয়াতির মাধ্যমে সেই সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর করা হয়।
২০১৯ সালে যমুনা ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করে। ২০২২ সালের ২৩ মে রাজশাহীর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন চাইলে তা নাকচ হয়ে তারা জেল যান। পরে জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।

