গাজীপুরে ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে এসেছে। গতকাল রোববার রাতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে প্রতিবেদনটি পুলিশকে জমা দেওয়া হয়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুহিনের গলা, ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর নয়টি গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। গত ৭ আগস্ট রাত চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভিডিও করার সময় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে আটজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শনিবার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ এন এম আল মামুন বলেন, “আঘাতগুলো ছোট-বড় হলেও সবই সমানভাবে গুরুতর ও গভীর ছিল।”
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে গেছে পুলিশ। আসামিদের রিমান্ড শেষে আজ আদালতে তোলা হবে। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারে।”
এর আগে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন সাংবাদিক তুহিনের হত্যাকাণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও হয়রানির প্রতিবাদে টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। আজ দুপুরে সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি ও গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ আয়োজনে কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান সুমন চৌধুরী, গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম কাজল খান, সাংবাদিকরা রাজু আহম্মেদ, আবু সালেহ ও পলাশ সরকার। বক্তারা দাবি করেন, তুহিন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংগঠন গাজীপুর প্রেসক্লাবে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে সরকারের ব্যর্থতা ও পুলিশের অবহেলার কারণে তুহিনের নির্মম হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউর রহমান বলেন, “শুধু ভিডিও ধারণের কারণে এই হত্যাকাণ্ড হয়নি। এটি পরিকল্পিত। গ্রেপ্তারদের কেউ গাজীপুরের নয়। তাদের আশ্রয়দাতাদের নাম প্রকাশ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “গাজীপুরে সন্ত্রাসীরা লালন-পালন করছে, যারা হত্যা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই চালাচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়ংকর অবস্থায়। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ থাকবে কিনা সন্দেহ।”
সংগঠনটি দ্রুত তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না দিলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন গাজীপুর মহানগরের সভাপতি ফয়জ উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন মহানগর শাখার সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মিয়াজী, এম এ হানিফ সরকার, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম ও মুফতি হোসাইন আহমদ।

