গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ কমিশনের সহকারী পরিচালক একেএম মর্তুজা আলী সাগর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সজীব ওয়াজেদ জয় অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে পাচার করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, জয় স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৬১ কোটি ৪৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১২ টাকার সম্পদের মালিক।
এর মধ্যে ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮১ টাকার সম্পদ গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও বাকি ৬০ কোটি ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭০ টাকার উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থের একটি অংশ অসাধু উপায়ে পাচার করে যুক্তরাষ্ট্রে দুটি বাড়ি ক্রয় করা হয়, যার মূল্য ৫৪ কোটি ৪ লাখ ৩২ হাজার ২৫৮ টাকা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জয় আয়কর আইন অনুযায়ী দেশ-বিদেশে অর্জিত সব সম্পদের তথ্য আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করতে বাধ্য ছিলেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং দেশ থেকে অসাধু উপায়ে অর্থ পাচার করে নিজের নামে দুটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৫০ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেন।
জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে পূর্বাচলে অনিয়মের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক, যা বর্তমানে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
গত ১১ মার্চ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, পরিবারের চার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দলের নামে থাকা ১২৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত।

