ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে নতুন পাঁচটি আনসার ব্যাটালিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনার লক্ষ্য শুধু নির্বাচনের নিরাপত্তা নয়, বরং জনবল সংকট কমানো ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর কার্যক্রম শুরু হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফাইল এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর ব্যাটালিয়ন গঠনের বাজেট ও বিস্তারিত কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
নতুন পাঁচটি ব্যাটালিয়ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থাপনায় দায়িত্ব পালন করবে। ঢাকায় প্রথম, বরিশাল সদরে দ্বিতীয়, চট্টগ্রাম তৃতীয়, রংপুরের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চতুর্থ এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় পঞ্চম ব্যাটালিয়ন স্থাপিত হবে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে ৪২৫ জন করে কর্মকর্তা ও সিপাহী দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ২ হাজার ১২৫টি স্থায়ী পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন কর্মকর্তা বিসিএস আনসার ক্যাডারের।
প্রস্তাবিত পদগুলো হলো— ৫ জন পরিচালক, ৫ জন উপপরিচালক, ১০ জন সহকারী পরিচালক, ২০ জন সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট, ৯০ জন সুবেদার, ১০০ জন নায়েব সুবেদার, ১২০ জন হাবিলদার, ২০০ জন নায়েক, ৩৯০ জন ল্যান্স নায়েক, ১ হাজার ১৮০ জন সিপাহী এবং ৫ জন নার্সিং সহকারী।
সাধারণত আনসার সদস্যদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে নির্বাচনের আগে দ্রুত মাঠে নামানোর জন্য চার মাসের প্রশিক্ষণও হতে পারে। সরকারি ছুটি বা বন্ধের দিনেও প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। সবকিছু নির্ভর করছে কত দ্রুত পদ সৃজন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে দেশে ৪২টি আনসার ব্যাটালিয়ন রয়েছে। ৩৯টি পুরুষ ব্যাটালিয়ন, ২টি নারী ব্যাটালিয়ন এবং ১টি গার্ড ব্যাটালিয়ন। বিশেষ স্থাপনায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকার কারণে নতুন ব্যাটালিয়ন জরুরি। রূপপুর ও রামপাল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কক্সবাজারের উখিয়া এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভোটকালীন নিরাপত্তার জন্য অনেক সদস্য প্রয়োজন।

নতুন ব্যাটালিয়ন আধুনিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হবে। পূর্বের ব্যাটালিয়নগুলোতে ব্যবহৃত রাইফেলগুলো বেশ পুরোনো। নতুন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা আধুনিক অস্ত্র নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে অবকাঠামো নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। মানিকগঞ্জে গঠিত ৩৯তম ব্যাটালিয়ন এখনো পুরোপুরি অবকাঠামোগতভাবে প্রস্তুত নয়। তাই নতুন ব্যাটালিয়নের জন্য সুবিধা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সরকার মুহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও বড় পরীক্ষা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত জনবল থাকা জরুরি। তিনি মনে করান, ব্যাটালিয়নগুলো শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক অস্ত্র ও অবকাঠামো নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
প্রসঙ্গত, পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই ভোটকেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা মজবুত রাখতে আনসার বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজন।

