জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু তাহের এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর পাপিয়া ও তাঁর স্বামীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। দুদক ২০২০ সালের ৪ আগস্ট পাপিয়া ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে।
এর আগে গত ২৫ মে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় পাপিয়াকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর অস্ত্র আইনের মামলায় পাপিয়া ও তাঁর স্বামীকে সর্বোচ্চ ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাপিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিলাসবহুল কক্ষ ভাড়া নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবর পেয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। ওইদিন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাঁকে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পাপিয়ার বুকিং দেওয়া বিলাসবহুল স্যুট ও রাজধানীর ইন্দিরা রোডের ফ্ল্যাট থেকে র্যাব বিদেশি একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা ও কয়েকটি এটিএম কার্ড জব্দ করে।
র্যাব জানায়, পাপিয়া ও তাঁর স্বামীর মালিকানায় রাজধানীর ইন্দিরা রোডে দুটি ফ্ল্যাট, নরসিংদীতে দুটি ফ্ল্যাট, ২ কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট, তেজগাঁও এফডিসি ফটকের কাছে গাড়ির শোরুমে ১ কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন নামে প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে।
এসব ঘটনার পর বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করে র্যাব। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অবৈধ পাঁচ কোটি টাকার খোঁজ পেয়ে পাপিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করে।

