দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত আমলের দুর্নীতি তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির ১৫ কর্মকর্তার নথিপত্র চেয়েছে।
দুদকের বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল নাম, পদবি, কর্মরত শাখার নাম (যদি প্রযোজ্য হয়), বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, এনআইডি ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করার অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিটি অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. আবুল কাইয়ুম হাওলাদার সই করেছেন। আজ রোববার (২৪ আগস্ট) দুদকের একটি উর্ধ্বতন সূত্র ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেসব কর্মকর্তার নথি চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—চার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব, আবুল বাশার, ওমর ফারুক ও মকসুমুল হাকিম রেজা; সহকারী প্রকৌশলী অরিফুর রহমান; উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল আলম, আহসান হাবিব ও রেজাউল করিম; সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ওহিদ মুরাদ; পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দিপক লাল মৃধা ও রেজাউল; রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার; ট্রেড সুপার মো. শহিদুল; সুপারিন্টেন্ডেন্ট (পানি সরবরাহ) পান্না; এবং মেডিকেল অফিসার খন্দকার মনজুরুল ইসলাম শুভ্র। চিঠিতে তাদের ব্যক্তিগত নথি জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে সাবেক মেয়র খোকন ও প্রধান উচ্ছেদ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসসহ ১৯ কর্মকর্তার ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, খোকন সেরনিয়াবাত আমলে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সময়ে বালু ভরাট, ২০২২ সালের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার ব্যানার তৈরির কাজ, ফেসবুক পেজ বুস্টিংয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার কাজে দুর্নীতি, এছাড়া সাবেক মেয়রের ল্যাপটপ, ড্রোন ক্যামেরা, চেয়ার, টেবিল, মনিটর ও আইটি সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, সাবেক মেয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। তারা যৌথভাবে অবৈধ নিয়োগ, অতিরিক্ত টাকা আদায়, ঘুষ বাণিজ্য ও অর্থ লোপাটসহ নানা ধরনের দুর্নীতি করে সরকারের ও জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার ও ট্রেড সুপার মো. শহিদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে তারা তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় চাকরিতে ফিরে এসেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ পরিসংখ্যানবিদ স্বপন কুমার দাসও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উচ্ছেদ শাখা ও অন্যান্য পদে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকাকালীন নানা অপকর্মের অভিযোগে জড়িত ছিলেন।
দুদক পরিচালক মোজাহার আলী সরদার জানান, সাবেক মেয়র খোকন ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধানের পর কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

