উড়োজাহাজের অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’-এর বিরুদ্ধে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সাঈদ আহমেদ (৪০) এবং চিফ অপারেটিং অফিসার এ কে এম সাদাত হোসেন (৩২)।
এর আগে ২ জুলাই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামি ছিলেন ফ্লাইট এক্সপার্টের হেড অব ফিন্যান্স সাকিব হোসেন (৩২)।
রাতেই গ্রাহক বিপুল সরকার মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি দুই আসামি হলেন ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রাশিদ শাহ সাঈম এবং তার বাবা এম এ রাশিদ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে ফ্লাইট এক্সপার্ট বন্ধ হয়ে যায়। এতে টিকিট বিক্রেতা এজেন্সি এবং হাজারো গ্রাহক সমস্যায় পড়েন। তারা অগ্রিম টিকিটের জন্য অর্থ জমা দিয়েছিলেন। ফ্লাইট এক্সপার্টের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মালিকপক্ষ দেশ ছাড়ে। এতে গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কোটি কোটি টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী বিপুল সরকার অভিযোগ করেছেন, আসামিরা ৪ কোটি ৭৯ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।
ফ্লাইট এক্সপার্ট ২০১৭ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করে। তারা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনের টিকিট, হোটেল রিজারভেশন, ট্যুর প্যাকেজ এবং ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মতো সেবা দিত। কম খরচে সহজ টিকিট বুকিংয়ের সুবিধার কারণে প্ল্যাটফর্মটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠান সরাসরি উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থার কাছ থেকে টিকিট না নিয়ে দুটি মধ্যস্থতাকারী এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করত। অভিযোগ রয়েছে, ওই এজেন্সিগুলো নিজেদের কেনা টিকিট রিফান্ড করে অর্থ তুলে নিত।

