ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৫ গতকাল রোববার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আহমেদ ও তাঁর ছেলে, সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদের প্রায় ২০ কোটি শেয়ারের হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এই শেয়ারের বাজারমূল্য ৮১৯ কোটি টাকা। ব্যাংকের মোট শেয়ারের প্রায় ২৩ শতাংশই এই শেয়ার।
আদালতের সূত্রে জানা যায়, আদেশ দেন বিচারক মুজাহিদুর রহমান। ব্যাংক এশিয়ার ১২৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় এই শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ আসে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সাহাবুদ্দিন আহমেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান সাদিয়া রাইয়ান আহমেদ তার মেয়ে, যিনি ২০২৩ সালের জুনে সায়েম আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হন। ব্যাংকের ছয় সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে দুজন প্রতিনিধি পরিচালক এবং তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক।
ব্যাংক এশিয়ার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও সায়েম আহমেদ ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ব্যাংক এশিয়া থেকে ঋণ নেন। এই ঋণের বিপরীতে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক নেই। দুই দফা ঋণ পুনঃতপশিলের পরও টাকা পরিশোধ না করার কারণে ব্যাংক শেয়ার অবরুদ্ধের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত ব্যাংক এশিয়ার এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। একই সঙ্গে আদালত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাংক এশিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
শেয়ার হস্তান্তর বন্ধের জন্য আদালতের আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি এবং শেয়ারধারক ব্রোকারেজ হাউস শাকিল রিজভি স্টক লিমিটেডের এমডিকে। সব পক্ষকে অবহিত করতে নোটিশের কপি দুটি পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আহমেদের নামে ১৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৪টি শেয়ার রয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ৪১ টাকা ১০ পয়সা, মোট মূল্য ৭৩০ কোটি ৬ লাখ টাকা। সায়েম আহমেদের শেয়ার সংখ্যা দুই কোটি ১৭ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৭টি, যার বাজারমূল্য ৮৯ কোটি ৩৪ লাখ। বাবা ও ছেলের শেয়ার মিলিয়ে সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৩১টি, মোট বাজারমূল্য ৮১৯ কোটি ৪০ লাখ।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ডাচ্-বাংলার মোট শেয়ার ৮৭ কোটি ৮৮ লাখ। মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও সায়েম আহমেদের শেয়ার মোট শেয়ারের ২২.৬৯ শতাংশ। তবে বিভিন্ন সময়ে তাদের বেনামি শেয়ারধারণের তথ্যও প্রকাশ পায়। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একক পরিবার, কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বাধিক ১০ শতাংশ শেয়ার রাখতে পারে। ১০ শতাংশের বেশি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শেয়ার বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিতে পারে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আহমেদ নানা কারণে ব্যাংক খাতে আলোচিত। মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ভবন’ নামে পরিচিত। প্রকৃত নাম ‘আমিনা আহমেদ (এএ)’। ব্যাংকের কাছে তিনি এই ভবন ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় রয়েছে তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এএ সিনথেটিকের অফিস।
এ ছাড়া ব্যাংকটিতে বেনামি শেয়ারধারণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উদ্যোক্তা পরিচালক আবেদুর রশীদ খান ও আবদুস সালামের শেয়ার নিয়ে আগেই দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(ক) অনুযায়ী, শেয়ার ক্রয়ের সময় ক্রেতাকে শপথপত্র দিতে হয় যে, তিনি অন্যের পক্ষে বা বেনামিতে শেয়ার ক্রয় করছেন না। শর্ত ভঙ্গ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট শেয়ার বাজেয়াপ্ত করতে পারে।

