ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসু ও হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থীদের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ভোটের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সাতটি প্রবেশ পথে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। ভোট শেষ হওয়া থেকে ফলাফল ঘোষণার সময় পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো ঘিরে রাখবে সেনারা, যাতে বাইরের কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
অন্য রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল হক বলেন, ডাকসু নির্বাচন একটি এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম। আমাদের মূল কাজ পড়াশোনা। নির্বাচনী প্রচারণার সময় পাঠ্য কার্যক্রম, গবেষণা বা সেমিনারে কোনো ব্যাঘাত চলবে না। এটি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই আন্দোলন স্মরণ করে নির্বাচনে কোনো প্রার্থী কটাক্ষ বা অসম্মানজনক প্রচারণা চালাতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের স্বার্থ সবার আগে থাকবে। এর ব্যতীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিধিবদ্ধ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। তিনি আরো বলেন, রিটার্নিং অফিসাররা শিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। কোনো ধরনের বেয়াদবি বা অনলাইন হেট স্পিচ সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ভোটের দিন মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বন্ধ থাকবে। এছাড়া ভোটের সাত দিন আগে থেকে হলগুলোতে কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা ২৬ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে প্রচারণা চালাতে পারবেন। প্রচারণার সময়ে সামাজিক, আর্থিক বা সেবামূলক সহায়তা দেওয়া যাবে না। এছাড়া মজলিশ-মাহফিল বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা করা যাবে না; তা হলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে।

