বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবারও আদালতে জমা পড়েনি। আদালত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন আজ মঙ্গলবার এই তারিখ ধার্য করেন। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন। পরে বিভিন্ন সময়ে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ফেরত আনা সম্ভব হলেও ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার এখনও উদ্ধার করা হয়নি।
ঘটনার ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত ১৩ জনের গাফিলতি, অবহেলা ও দায় ছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অদক্ষতা ও অবহেলাকেই মূলত দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই রিজার্ভ চুরির সুযোগ তৈরি করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অরক্ষিত, কর্মকর্তারা দায়িত্বহীন। চুরির চূড়ান্ত কারণ হিসেবে সুইফট সার্ভারকে স্থানীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ছয় মাসের মধ্যেই গোপন সংকেত বা পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে ৮ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬২৩ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮১০ কোটি টাকা) চুরি করা সম্ভব হয়। রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনা একদিন পর জানতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা ২৪ দিন গোপন রাখে। ৩৩তম দিনে বিষয়টি তৎকালীন অর্থমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

