অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রায় পুনর্বিবেচনার সময় আপিল বিভাগ চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিভাবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে নতুন পর্যবেক্ষণ দিতে পারে। আজ (বুধবার) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর রিভিউ আবেদনের শুনানিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, গত দেড় দশকে দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে শোষিত হয়েছে। মানুষ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেসব সিস্টেম ছিল, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে মানুষ বিচার পায়নি। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ পতনের পথ তৈরি হয়। রাজপথ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে কে প্রধান বিচারপতি হবেন, কে সরকার প্রধান হবেন। জনগণের ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করা বিপ্লবের কারণ হতে পারে।
এর আগে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য কার্যকর সমাধান চায়। যাতে এটি বারবার বিঘ্নিত না হয় এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিলে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে।
বিএনপির আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, তিনি আইনজীবী হিসেবে এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে পারবেন না। পরে ডায়াসে এসে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, শুনানিতে সব বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আজ চারটি আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো নির্বাচকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা চাওয়া আবেদন। এর আগে গতকাল প্রথম দিনের শুনানি হয়।
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বৈধ ঘোষণা করে। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিল অনুমোদিত হয়। ২০০৫ সালে আপিল করা হয়। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্যরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। এরপর ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

