বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে নিহত আসাদুল হক বাবু হত্যাকাণ্ডের মামলায় নতুন মোড় এসেছে। সম্প্রতি এই মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘মাই টিভি’র চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী ও তার ছেলে, কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, আর তৌহিদ আফ্রিদি এখনও রিমান্ডে রয়েছেন।
অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ডে আফ্রিদিকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বাবা-ছেলের অপকর্ম ও প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের নানা দিক নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। বিশেষ করে তারা পতিত সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপির সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে, ক্ষমতার ছত্রছায়ায় ‘মাই টিভি’ দখল করেছে—এ বিষয়টি তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, নাসির উদ্দিন সাথী বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিপুল অর্থ উপার্জন করতেন এবং অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। ছেলে আফ্রিদি তার বাবার ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এই বাবা-ছেলের সিন্ডিকেটের নাম সিআইডি জানিয়েছে ‘গিভ অ্যান্ড টেক’। যারা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চেয়েছেন, তাদেরকে প্রাণনাশ বা গুমের হুমকি দেখানো হতো।
তদন্তে দেখা যাচ্ছে, তারা বিদেশে গিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ অপরাধীদের সঙ্গে দেখা করতেন, শোবিজের উঠতি নায়িকাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ ব্যবহার করতেন। এছাড়া নানা সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর অবৈধ প্রভাব বিস্তার করেও অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ‘মাই টিভি’র প্রকৃত মালিক নন নাসির উদ্দিন সাথী। বিলকিস জাহান নামের এক নারীর কাছ থেকে জাল-জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে চ্যানেলটি দখল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পতিত সরকারের মন্ত্রীরা তাদের সহযোগিতা করায় বাবা-ছেলে প্রভাবশালী হয়ে উঠেন।
রিমান্ডে আফ্রিদির জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রমাণ মিললে মানি লন্ডারিংসহ আরও কিছু মামলায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
২০১৫ সালে ইউটিউবার হিসেবে যাত্রা শুরু আফ্রিদি। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন নায়িকা ও মডেলের সঙ্গে ছবি পোস্ট করতেন। কিছু ছবিতে রোমান্টিক ভঙ্গিতে উপস্থিতির কারণে বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় এসেছে। এছাড়া তার মোবাইল, হার্ডডিস্ক ও ম্যাকবুক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।
সিআইডি বলছে, এই পরীক্ষায় আফ্রিদির অপরাধ জগতের অনেক তথ্য পাওয়া যাবে, যা সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের শনাক্তকরণে সহায়ক হবে।
যাত্রাবাড়ী থানায় এই হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করেন নিহত আসাদের বাবা মো. জয়নাল আবেদীন। মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে নাসির উদ্দিন সাথী ২২ নম্বর ও তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর আসামি।
গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেপ্তার হন। পরদিন তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়, এবং এখনও তিনি সিআইডির রিমান্ডে রয়েছেন।

