বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত ৩৬০ কোটি টাকা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদেশ অনুযায়ী, বেক্সিমকো লিমিটেডের ছয় পরিচালক, যার মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানও রয়েছেন, এখন থেকে ১২ শতাংশ সুদসহ এই ঋণ পরিশোধ করবেন।
ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৫-এর বিচারক মুজাহিদুর রহমান গতকাল রোববার ইউসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদেশ দেন। আদালতে বেক্সিমকো গ্রুপের পক্ষে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। অর্থঋণ আদালত আইনের ৬(৪) ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের হলফনামাকে মৌলিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আদালত আদেশ দেন। ঋণ পরিশোধের আদেশে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন:
- ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান (কারাগারে রয়েছেন)
- চেয়ারম্যান আহমেদ সোহেল ফসিহুর রহমান (এএসএফ রহমান, বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন)
- পরিচালক ইকবাল আহমেদ
- ওসমান কায়সার চৌধুরী
- আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান
- রীম এইচ শামসুদ্দোহা
আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, ইউসিবির গুলশান করপোরেট শাখা থেকে ২০১৯ সালে বেক্সিমকো ২৫০ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ নিয়েছিল। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় কয়েক দফা সীমা বাড়িয়ে তা নিয়মিত রাখা হয়। ২০২২ সালে দুই কোটি ৬৭ লাখ টাকার সুদ মওকুফ সুবিধা দিয়ে ৩২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আবার ৩৩৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল করা হয়। এরপরও ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় গত জুনে ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। এই ঋণের বিপরীতে পরিচালকরা ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছেন।
গত ২৭ আগস্ট একই আদালত জনতা ব্যাংকের ২০৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মামলায় আসিফ অ্যাপারেলসের দুই মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ এবং তাঁর ছেলে ও পরিচালক আসিফ সালাউদ্দিনের ৬ মাসের দেওয়ানি আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান আসিফ অ্যাপারেলস জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করায় খেলাপি হয়ে গেছে। ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করেন। বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে টাকা আদায় না হওয়ায় আদালত মালিক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

