প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগে ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির প্রায় ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান: বিচার বিভাগের সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই তথ্য জানান।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাকি পদক্ষেপগুলোও সরকারের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’ তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আচরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। দেশের প্রতিটি আদালতে সংস্কার প্রসারিত করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগ পূর্ণ স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। জনগণকে ন্যায্যতা, সাহস ও সততার সঙ্গে সেবা দেওয়া জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। এটি হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে বিচারক নিয়োগের ন্যায্যতার ওপর। সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল চালু হওয়ায় কলেজিয়ামভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ল্যাটিমার হাউস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধান বিচারপতি জানান, ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার মানদণ্ড অনুসরণ করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের ওপর জন–আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে। তরুণ প্রজন্মও নিশ্চিত হয়েছে যে যোগ্যতা ও সততা এখন বিচারক নির্বাচনের মূল ভিত্তি।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে প্রশিক্ষিত বিচারক ও ডিজিটাল ফাইলিং প্রক্রিয়ার আদালত চালুর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আদালত চালু হলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। দ্রুত ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত হলে দেশ বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে। আইন বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী এবং বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

