ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভুয়া ‘বাবা’দের ধরতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ‘অপারেশন কালনেমি’ অভিযানে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। আজ সোমবার ভারতের এনডিটিভি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পুলিশ অভিযানের অংশ হিসেবে ভুয়া ‘বাবা’দের গ্রেপ্তার করেছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই ব্যক্তি মানুষকে প্রতারণা ও ধর্মান্তরে জড়িত ছিল। গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তরাখণ্ড পুলিশের অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা শাখার আইজি নিলেশ আনন্দ ভরনে জানিয়েছেন, অভিযানের পর পর্যন্ত ৫ হাজার ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, অভিযান জুলাই মাসে শুরু হয়। আগস্ট পর্যন্ত রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছিল, ৪ হাজার মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইজি ভরনে বলেন, অভিযান ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষকে তল্লাশি করা হয়েছে। হরিদ্বারে ২ হাজার ৭০৪ জনকে যাচাই করা হয়েছে এবং সেখানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেরাদুনে ৯২২ জন যাচাই করা হয়েছে এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টেহরি, পাউরি, আলমোড়া, নৈনিতালসহ অন্যান্য জেলাতেও অভিযান চলছে।
আইজি ভরনে জানান, অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ‘দেবভূমি’ নামের রাজ্যের পবিত্র ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া একজন বাংলাদেশি নাগরিক সেলাকুই এলাকায় ‘অমিত কুমার’ নামে ভুয়া পরিচয়ে আট বছর ধরে ‘বাঙালি ডাক্তার’ হিসেবে বসবাস করছিলেন।
এছাড়া ভাতশাসিত জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগের বাসিন্দা ইফরাজ আহমেদ লোলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিজের ধর্ম পরিচয় গোপন করে ‘রাজ আহুজা’ নামে দিল্লির ধনী ব্যক্তি সেজে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।

