ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা রিট সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন। আগামীকাল মঙ্গলবার ডাকসু নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জুলিয়াস সিজার প্রার্থিতা ফিরে পেতে গত মাসে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। রিটটি ৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য উঠলেও কার্যতালিকায় থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে এটি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। আজ সেই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
রিটের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী সরদার আবুল হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। শুনানির পর আইনজীবী শিশির মনির জানান, হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করেছেন। ফলে জুলিয়াস সিজারের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।
আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, এবারের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রার্থী হন জুলিয়াস সিজার। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন ২১ আগস্ট প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে তার নাম ছিল। এরপর জুলিয়াস সিজারের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে। ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল তার প্রার্থিতা বাতিলের সুপারিশ করে। জুলিয়াস সিজার ২৫ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করেন। এরপর ২৬ আগস্ট চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ডাকসু নির্বাচন কমিশন। তার আপিলের পর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ২৯ আগস্ট কমিটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট কমিটি প্রতিবেদন দেয়, যেখানে ট্রাইব্যুনালের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সুপারিশ থাকে। এরপর ৩১-ই আগস্ট জুলিয়াস সিজার হাইকোর্টে রিট করেন ভোটার তালিকায় তার নাম এবং ব্যালট বহাল রেখে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নির্দেশনার জন্য। আজ সেই রিট সরাসরি খারিজ হলো।

