জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এদিন বেলা পৌনে ১১টায় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন মাহমুদুর রহমান। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সাক্ষ্য দেবেন। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তিনি আগামীকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেবেন।
এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর ১৪তম দিনের মতো এ মামলায় ছয়জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৪৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জেরা ৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। মামলার এই আসামি রাজসাক্ষী হয়ে জানান, জুলাই-আগস্টে গণহত্যা শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের সামনে নতুন অনেক তথ্য উপস্থাপন করেন তিনি।
১ সেপ্টেম্বর দশম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। এদিন ছয়জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসক, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ বর্ণনা উঠে এসেছে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচটি অভিযোগ আনে।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা, শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

