দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের ১৪৬টি ব্যাংক হিসাবের ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি সন্দেহভাজন লেনদেন খতিয়ে দেখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ ইতোমধ্যেই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ রয়েছে। গতকাল রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কামরুল ইসলাম নামের একজন আইনজীবী অভিযোগ দাখিল করেছেন।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, “অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এখন যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে আছে। কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” দাখিলকৃত অভিযোগ ও বিএফআইইউ’র গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা যায়, শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরীন ও ছেলে জারান আলী চৌধুরীর নামে ২৮টি ব্যাংকে ১৮৭টি হিসাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শওকত আলী চৌধুরীর নামে ১৪টি, স্ত্রীর নামে ১৫টি, জারা নামরীনের নামে ৯টি, জারান আলী চৌধুরীর নামে ৩টি এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪৬টি হিসাব রয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত এসব হিসাবের মোট জমা ছিল ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮২.২২ টাকা। এর মধ্যে ৮ হাজার ২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০.৩১ টাকা উত্তোলন হয়েছে। ওই সময়ে ব্যাংকগুলিতে স্থিতি ছিল ১ হাজার ৭৩ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ১৫৮ টাকা। সব হিসাবের কেওয়াইসি, বিবরণী ও অন্যান্য দলিল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশেষভাবে শওকত আলী চৌধুরীর ঢাকা ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় পরিচালিত প্লাটিনাম হিসাবটি দেখা যায়, যা ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি খোলা হয়েছিল এবং ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর বন্ধ হয়। এই হিসাবের মোট জমা ৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ৯৬ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ টাকা, মোট উত্তোলন ৩ হাজার ৯৮৬ কোটি ২৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৫ টাকা। বন্ধকালীন স্থিতি ছিল মাত্র ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৯ টাকা। এই হিসাব ব্যবহার করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এসএন কর্পোরেশনের লেনদেন করা হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে ট্যাক্স ফাঁকির উদ্দেশ্যে হতে পারে বলে বিএফআইইউ মনে করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে দুটি বাড়ি রয়েছে এবং অন্য দুই দেশের সম্পদের তথ্যগুলো বিএফআইইউ তদন্ত করছে।
গত ৩০ জুন শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয় এবং এখনও জব্দ অবস্থায় রয়েছে। বিএফআইইউ সূত্রে জানা যায়, শওকত আলী চৌধুরীর সঙ্গে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফতের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে, আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে শওকত আলী চৌধুরীর ব্যবসা ও রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব ছিল চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ জে এম নাসির, শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস আলাউদ্দিন নাসিম, চৌধুরী নাফিস শারাফাত, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, নূর আলী ও ফজলে করিমের সঙ্গে।

