যদি আপনি নারী নির্যাতনের মামলার শিকার হন—মিথ্যা ধর্ষণ মামলা, ধর্ষণ চেষ্টার মামলা, প্রেমের কারণে মিথ্যা অপহরণ মামলা, যৌন নির্যাতন, কিংবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা—তাহলেও আপনি জামিন পেতে পারেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী এই ধরনের মামলায় জামিনের বিধান রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা:
- ১৯(৩) উপ-ধারা অনুযায়ী, আসামী নারী, শিশু বা শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে আদালত জামিন দিতে পারবেন যদি তা ন্যায়বিচারের ক্ষতি না করে।
- নারী, শিশু বা অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত অন্য আসামীর ক্ষেত্রেও আদালত ন্যায্য মনে করলে কারণ উল্লেখ করে জামিন দিতে পারেন।
- আসামী যদি ছাত্র ও পরীক্ষার্থী হয়, আদালত তার ছাত্রজীবনের গুরুত্ব বিবেচনা করে জামিন দিতে পারেন (৪০ ডিএলআর ২৪৪)।
জামিন অনুমোদনের অন্যান্য শর্ত:
- জামিন দিলে আসামী বা তার লোকজন বাদীপক্ষ, ভিকটিম বা সাক্ষীর উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
- অপরাধের গুরুত্ব যাই হোক, আসামী যদি পলাতক না হয়ে আদালতে উপস্থিত হয়, তখনও বিজ্ঞ আদালত জামিন দিতে পারেন (১৪ ডিএলআর ৩২১)।
- একাধিক আসামীর ক্ষেত্রে, যদি সহ-আসামী জামিন পেয়েছেন, অন্য আসামীরাও জামিনের অধিকারী (৬৫ ডিএলআর ৫৪১)।
- মামলার ঘটনা বা পরিস্থিতি যদি সন্দেহ সৃষ্টি করে, আসামী ‘সন্দেহের সুবিধা’ পেতে পারেন (১৫ বিএলডি, পৃ.১৬২)।
আইন ও সংবিধান অনুযায়ী:
- সংবিধানের ধারা ৩১ অনুযায়ী, আইনানুগ প্রক্রিয়া ব্যতীত কারো জীবন, সুনাম, সম্পত্তি বা স্বাধীনতার ক্ষতি করা যাবে না। তাই জামিনকে শাস্তি হিসেবে গণ্য করে আটক রাখা ঠিক নয় (১৩ বিএলডি ১২৩)।
- ফৌজদারী মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া আসামীকে দোষী ধরার কোন অধিকার নেই; নির্দোষ ধরে নিতে হবে (৭ বিএলডি (এডি) ২৬৫)।
- বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে এবং আসামী দীর্ঘদিন হাজতে থাকলে আদালত জামিন দিতে পারেন (৫০ ডিএলআর, ১৬১)।
আপনি উপরের যে কোনো মামলার শিকার হলেও, আইনের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে আপনি জামিন পেতে পারেন। আদালত ন্যায্যতা, নিরাপত্তা ও সন্দেহের সুবিধা বিবেচনা করে মুক্তি দিতে পারেন।
সূত্র: অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

