ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
আদালতে আসামির আইনজীবী বোরহান উদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল এবং জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করে রিমান্ড মঞ্জুর করার প্রস্তাব দেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মিঠুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন তাকে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মিঠু অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ স্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে ৭৫ কোটি ৮০ লাখ ৭৭ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এতে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
তদন্তে দেখা গেছে, মিঠু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে মালামাল সরবরাহ এবং উন্নয়নকাজের নামে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
এর আগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে দুদকে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড আবেদনের শুনানি ১৮ সেপ্টেম্বরের জন্য ধার্য করা হয়।
নথি সূত্রে জানা গেছে, মিঠু লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি কৃষিজমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও বিনিয়োগ, গাড়ি, ব্যাংক হিসাব, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী মিলিয়ে ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ তার নামে পাওয়া গেছে।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি মিঠুর নামে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদ ও ব্যয়সহ তার মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার অনুমোদন দেওয়ার পরের দিন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা–১) মামলা করেন।

