ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে এস. আলম গ্রুপ। গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এ নোটিশ পাঠান চট্টগ্রামের একজন সিনিয়র আইনজীবী। বুধবার নোটিশটি নয়া দিগন্ত সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, গত ২৭ আগস্ট নয়া দিগন্তে ‘আ.লীগকে ফেরাতে নীলনকশা—এস. আলমের সাথে দিল্লিতে হাসিনার একাধিক গোপন মিটিং, প্রাথমিকভাবে আড়াই হাজার কোটি টাকা হস্তান্তর’ শিরোনামে একটি মিথ্যা ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, এস. আলম গ্রুপ চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ বিদেশে আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং অর্থ লেনদেনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এস. আলম গ্রুপ জানিয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী সাইফুল আলম মাসুদ তখন চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক কাজে সিঙ্গাপুরে ছিলেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং ১৯৮৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সব সরকারের সঙ্গে ওয়ার্কিং রিলেশন বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া ও বানোয়াট। এর মাধ্যমে এস. আলম গ্রুপের সুনাম ক্ষুণ্ন করে প্রায় ২ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান এবং লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। তারা এটিকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ধ্বংসের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা বলে অভিযোগ করে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতিবেদনের আগে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। বরং তাদের পাঠানো প্রতিবাদও নয়া দিগন্ত প্রকাশ করেনি বা কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
আইনি নোটিশে বলা হয়, এই অসত্য প্রতিবেদনের কারণে এস. আলম গ্রুপের এক লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো দেশবিরোধী গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে নয়া দিগন্তকে বিভ্রান্ত করে এস. আলম গ্রুপকে টার্গেট করেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়নি, বরং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশক ধরে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
এস. আলম গ্রুপের ব্যবসায় রয়েছে সিমেন্ট, ভোজ্যতেল, সিআর কেবল, চিনি, ঢেউটিন, বিদ্যুৎ প্রকল্প, ব্যাংক, বিমা, তথ্যপ্রযুক্তি, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্য আমদানি। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীনের যৌথ উদ্যোগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে।
নোটিশে নয়া দিগন্তকে ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় এস. আলম গ্রুপ দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের আশ্রয় নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

