গাইবান্ধার সাবেক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং বর্তমানে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জেলা জজ) মো. আলমগীর কবির রাজকে বিভাগীয় শাস্তি হিসেবে ভবিষ্যৎ পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২(চ) অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ০২/২০২১ নং বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। মামলার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ পদোন্নতি বন্ধের প্রস্তাব পাঠানো হয় সুপ্রিম কোর্টে। পরে সুপ্রিম কোর্ট সরকারের প্রস্তাবে সম্মতি দেয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে এবং একই বিধিমালার ১৬(খ)(২) ধারা অনুসারে তাঁকে “ভবিষ্যৎ পদোন্নতি বন্ধ” শাস্তি প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচিব (চলতি দায়িত্ব) লিয়াকত আলী মোল্লা। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় বিচারক আলমগীর কবির রাজের অসদাচরণ প্রমাণিত হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
অভিযোগের সূত্রপাত ২০১৮ সালের ৫ জুন। সেদিন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মোবাইল ফোনে জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশেদা সুলতানাকে জানান, এক নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। পরে জানা যায়, ওই নারী বিচারক রাজের প্রথম স্ত্রী। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরদিন বিচারক রাজের প্রথম স্ত্রী জেলা জজের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী বাড়ির কাজের মেয়েকে গোপনে বিয়ে করেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণও দেন না। এই ঘটনা গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। জেলা জজ চিঠিতে উল্লেখ করেন, এ ধরনের আচরণে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
জেলা জজের চিঠির ভিত্তিতে আলমগীর কবির রাজের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয় কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গাইবান্ধার জেলা ও দায়রা জজ দিলীপ কুমার ভৌমিককে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়। অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হলে আলমগীর কবির রাজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়।

