কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাদের আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হবে।
গত মঙ্গলবার কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস. এম. জিল্লুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত আসামিরা যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—
- ছনখোলা পিএমখালী ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের ছেলে বেদার মিয়া
- পরানিয়া পাড়া পিএমখালী ইউনিয়নের দিল মোহাম্মদের ছেলে মোস্তাক মিয়া
- খরুলিয়া বেপারী পাড়া ঝিলংজা ইউনিয়নের রশিদ আহমদের ছেলে বেলাল উদ্দিন
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাওহীদুল আনোয়ার। ভুক্তভোগী নারী কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষিকা। ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ইজিবাইকযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বাংলাবাজার ব্রিজ এলাকায় তিন আসামি তার পথরোধ করে। পরে তাকে জোরপূর্বক একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ২৩ আগস্ট তিনি কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। (থানা মামলা নং: ৫৩/২০২২, জিআর মামলা নং: ৫১১/২০২২, নারী নির্যাতন মামলা নং: ১৮৩/২০২৩)।
তদন্ত শেষে পুলিশ বেদার মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও বেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। বিচার চলাকালে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আদালত ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্ট ও আলামত পর্যালোচনা করে। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে গত মঙ্গলবার আদালত রায় ঘোষণা করে।
২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এজন্য তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

