সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলার জট দিনে দিনে বাড়ছে। শুনানি ও নিষ্পত্তির ধীরগতির কারণে বেশকিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ডের আপিলও বছরের পর বছর ঝুলে আছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত আপিল বিভাগে মুলতবি মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ২টি। এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ২৯ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরে মামলার বোঝা বেড়েছে প্রায় আট হাজার। এ তালিকায় রয়েছে বহুল আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, আওয়ামী লীগ এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা এবং ছাত্র বিশ্বজিৎ দাস হত্যার মতো মামলা। এসব মামলার রায় এখনো আপিল বিভাগে ঝুলে আছে, হচ্ছে না শুনানি, হচ্ছে না নিষ্পত্তি।
সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৫২ হাজারে। গত বছরের জুনে এ সংখ্যা ছিল ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার। এর মধ্যে হাইকোর্টে ৬ লাখ ১৬ হাজার মামলা রয়েছে। আর নিম্ন আদালতগুলোতে মামলার সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে আপিল বিভাগ ২ হাজার ৭২টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। হাইকোর্ট নিষ্পত্তি করেছে ১০ হাজার ১৬১টি এবং নিম্ন আদালত প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার মামলা শেষ করেছে। তবে একই সময়ে নতুন মামলার সংখ্যা বেড়েছে আরও বেশি। শুধু আপিল বিভাগেই নতুন মামলা এসেছে ৪ হাজার ৯৩টি, হাইকোর্টে ২৭ হাজার ৪৮৬টি এবং নিম্ন আদালতে ৩ লাখ ৬৩ হাজার মামলা। তবে এই সময়ে সংবিধান ও রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিষ্পত্তি করেছে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্র বলছে, বিচারক সংকটই মামলার জটের প্রধান কারণ। আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ মাত্র সাতজন বিচারপতি আছেন। হাইকোর্টে বিচারপতি আছেন ১১১ জন এবং নিম্ন আদালতে ২ হাজার ১৮৭ জন। এর মধ্যে হাইকোর্টের চার বিচারপতিকে গত বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে অভিযোগ তদন্তের জন্য। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তাদের বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। এছাড়া আরও তিনজন বিচারক বর্তমানে ব্যক্তিগত ছুটিতে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় আদালত, পুলিশ, জেল, তদন্তকারী কর্মকর্তা, সাক্ষী, আইনজীবী ও আসামিদের একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে।
চাপ কমাতে ও মামলার গতি বাড়াতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট জাজ অ্যাপয়েন্টমেন্ট অর্ডিন্যান্স, ২০২৪ জারি করা হয়। এর অধীনে গত ২৪ মার্চ হাইকোর্টের দুই বিচারপতিকে আপিল বিভাগে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া হাইকোর্টে নতুন করে ২৫ জন বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ নিম্ন আদালতের মামলার গতি বাড়াতে হাইকোর্টের বিচারপতিদের নেতৃত্বে ১৩টি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছেন।

