জুলাই ও আগস্টে দেশে আন্দোলন দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর বর্বর হামলার ১৭টি ভিডিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়েছে। ভিডিওতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো, গ্যাসগান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ, নাবালকসহ বালকদের পুলিশ কর্মকর্তারা মাটিতে ফেলে কিল, ঘুষি ও লাথি মারার চিত্র ধরা পড়েছে। আন্দোলনকারীদের হত্যা এবং পরে লাশ পুড়িয়ে দেয়ার নৃশংস দৃশ্যও ফুটে উঠেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ের করা মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. আলমগীরের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তিনি ৫৪তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। আলমগীরই এই মামলার সর্বশেষ সাক্ষী।
তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দির অংশবিশেষ এবং জব্দ করা ভিডিও প্রদর্শনী সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বেলা সোয়া ১২টা থেকে বিটিভিতে এসব দৃশ্য দেখানো হয়। এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার ২২তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে। ওইদিন সাক্ষ্য দেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। পরে তাকে জেরা করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।
তদন্তকালে তানভীর জোহা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের সিডিআর বা কল ডিটেইল রেকর্ড জব্দ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনি পাঁচটি অডিও কথোপকথন সম্বলিত তিনটি সিডি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন। পরে সেসব ফোনালাপও ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়।

