দেওয়ানি অধিকার যেমন সম্পত্তি বা পদ সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিলে বাকি সব অপরাধই ফৌজদারি মামলার আওতায় পড়ে। বাংলাদেশে দাঙ্গা, খুন, সাইবার অপরাধ, অর্থ ও সম্পদ লুট, পাচার, আত্মসাৎ, বিশ্বাসঘাতকতা, হত্যার হুমকি, বেআইনি সমাবেশ, যৌন নিপীড়ন, জালিয়াতি ও মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ফৌজদারি মামলা নামে পরিচিত।
এসব মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি হতে পারে জরিমানা, কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত। আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা কয়েকভাবে দায়ের করা যায়।
জিআর মামলা:
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৫৪ ধারা এবং পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল ১৯৪৩-এর ২৪৩ বিধি অনুযায়ী থানায় এজহার দায়েরের পর যে মামলা হয় তাকে বলা হয় জিআর মামলা (General Registered Case)। এটি মূলত এফআইআর বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (First Information Report) এর ভিত্তিতে রুজু হয়। এজহার দায়েরের পর এফআইআর বা পিএস নম্বর দেওয়া হয় এবং এর কপি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছালে একটি জিআর নম্বরও বরাদ্দ হয়। এ ধরনের মামলাকে রাষ্ট্রবাদী মামলা বা পুলিশ কেসও বলা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬ ধারা অনুযায়ী এসব মামলার তদন্ত পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই করতে পারে।
সিআর মামলা:
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশী দরখাস্ত দাখিলের মাধ্যমে যে মামলা দায়ের হয় তাকে সিআর মামলা (Complaint Registered Case) বলা হয়। এখানে বাদী হয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি। কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট এ ধরনের মামলা আমলে নিতে পারেন। জিআর মামলায় রাষ্ট্র বাদী হলেও সিআর মামলায় ব্যক্তি বাদী থাকেন।
নন-জিআর ও নন-সিআর মামলা: ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ ধারা এবং পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল ১৯৪৩-এর ৩৭৭ বিধি অনুযায়ী জিডি এন্ট্রির ভিত্তিতে শুরু হওয়া মামলাকে বলা হয় নন-জিআর মামলা। পুলিশ যদি কোনো অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনার খবর পায়, বা অভ্যাসগত অপরাধীর কারণে আশঙ্কা তৈরি হয় তবে অপরাধ ঠেকাতে সম্ভাব্য অপরাধীদের কাছ থেকে শান্তি রক্ষার বা সদাচরণের মুচলেকা আদায়ের লক্ষ্যে মামলা করা হয়। এটিও নন-জিআর মামলা নামে পরিচিত। সাধারণত ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭, ১০৮, ১০৯ ও ১১০ ধারার আওতায় এসব মামলা হয়। এগুলো পুলিশের সাধারণ রেজিস্ট্রার বইতে অন্তর্ভুক্ত হয় না এবং কোনো এফআইআরও হয় না। তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া জিআর মামলার মতো হলেও বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা যায় না।
ইউডি মামলা: যদি কেউ অস্বাভাবিক কারণে মারা যায়, যেমন আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা বা খুন, এবং এতে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকে যে অন্য কেউ মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত, তবে থানায় যে মামলা হয় তাকে বলা হয় ইউডি মামলা (Unnatural Death Case) বা অপমৃত্যু মামলা। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ১৭৪ ধারা ও পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল ১৯৪৩-এর ২৯৯ বিধি অনুযায়ী এসব মামলা রুজু হয়। তথ্য পুলিশ কর্মকর্তা বি.পি. ফরম নং ৪৮-এ নথিভুক্ত করেন।

