সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(১) স্পষ্টভাবে বলে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের পক্ষে এই ক্ষমতা প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীনে এবং কর্তৃত্বে কার্যকর হবে অর্থাৎ, জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক হলেও তারা সরাসরি সংবিধান অনুসারে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ক্ষমতা বাস্তবায়ন করেন।
বাস্তবে জনগণ নিজস্বভাবে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। শাসন ও বাস্তবতার জগতে জনগণ প্রায়ই ক্ষমতাহীন। ক্ষমতা হাতে পাওয়া ব্যক্তিরা জনগণকে শোষণ করার চিন্তায় ব্যস্ত থাকেন। শুধুমাত্র ভোটের সময় জনগণকে ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে মনে করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মূলত ছাত্ররা। সাধারণ পরিবারের, কৃষক ও খেটে খাওয়া পরিবারের ছেলে-মেয়েরা এই আন্দোলনে অংশ নেন। এটি ছিল শোষিত জনগণের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ। স্বৈরশাসক পতনের পর সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে ওঠে। পৃথিবীর ইতিহাসে আন্দোলন আইন মেনে হয় না। আন্দোলন হয় আইন ভাঙা বা নতুন আইন প্রণয়নের জন্য। শেখ হাসিনার পালানোর পর নতুন আইনের ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দেয়। সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ন্ত্রণিত, অনুচ্ছেদ ৫৭ অনুযায়ী। প্রধানমন্ত্রীর পদ অবসান হয় যদি:
১) তিনি পদত্যাগ করেন
২) সংসদ ভেঙে যায়
৩) সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য হয়ে যান
এই পরিস্থিতি না হলে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকেন যতক্ষণ তার উত্তরসূরী আসেন। শেখ হাসিনা পালানোর পর পদত্যাগপত্র প্রদান করেছেন কিনা, তা অনুসন্ধান করা বেমানান। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিদ্যমান সংবিধানে স্পষ্ট বিধান নেই রাষ্ট্রপতির করণীয় কী হবে। ফলে, সংবিধান বহাল থাকায় রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারষ্পরিক সমঝোতা না থাকা এই প্রশ্নকে যৌক্তিক করে।
০৫-০৭ আগস্ট ২০২৪, প্রধানমন্ত্রী পালানো, মন্ত্রীসভা বিলুপ্ত করা, সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ০৮ আগস্ট ড. ইউনুস নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে। রাষ্ট্রপতি এককভাবে শপথ পাঠ করাননি। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ রাষ্ট্রপতির অনুচ্ছেদ ১০৬ ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন অনুমোদন দেয়।
অনুচ্ছেদ ১০৬ বলে, যদি রাষ্ট্রপতির কাছে মনে হয় যে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা সম্ভাব্য, তবে সুপ্রীম কোর্টের মতামত নেওয়া যেতে পারে। প্রশ্ন অবশ্যই বিদ্যমান আইন বা বিধি সম্পর্কিত হতে হবে। নতুন বা সংবিধানবিরোধী আইন নিয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন হলে সুপ্রীম কোর্ট সেই অসামঞ্জস্যতা বাতিল করতে পারে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু অনুচ্ছেদ ১০৬ এবং ড. ইউনুস সরকারের বৈধতা। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকে আইনজীবী শিশির মনির সংবিধান ও সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
সূত্র: ল’ ইয়ার্স ক্লাব।

