সিলেটে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক, উপজেলা সংবাদদাতা এবং আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে আজ সোমবার মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্ট ও সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট শামীম আহমদ। মামলা নং: শাহপরান (রহ.) সি.আর-৪৭/২০২৫।
বাদীর অভিযোগ, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার ৯ নম্বর পৃষ্ঠার ৫ নম্বর কলামে “কোটি টাকার খাস জমি আত্মসাতের চেষ্টা: বিশ্বনাথে উত্তেজনা” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে বাদীর পারিবারিক সম্পত্তি সরকারের খাস জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং তাকে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, বাদীর চাচা চাঁন মিয়া ও তার ভাতিজারা গ্রামবাসীকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন।
বাদী জানান, তাঁর চাচা চাঁন মিয়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে মারা গিয়েছেন এবং জীবদ্দশায় কারও বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা করেননি। বাদী নিজেও কখনো এমন কোনো মামলা করেননি। ফলে সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহমেদ নকিব বলেন, সংবাদে প্রকাশিত ছবির সাইনবোর্ড ও জমি আসলে বাদীর পারিবারিক সম্পত্তি। এটি এসএ খতিয়ান নং-০৩ এবং বিএস খতিয়ান নং-২৯৪ অনুযায়ী তাঁর পিতামহ আয়াতউল্লাহর নামে রেকর্ডভুক্ত। তিনি আরও জানান, ১৯৮৩ সালে সিলেটের দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা (মোকদ্দমা নং ২৩৭/১৯৮২) নিষ্পত্তি হয় এবং সেই রায় অনুযায়ী জমির স্বত্ব বহাল থাকে। সেই রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে বর্তমানেও জমি বাদীর উত্তরসূরিদের ভোগদখলে রয়েছে। মামলায় মোট ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে:
১. এম.এ. বাহাউদ্দিন, সম্পাদক, দৈনিক ইনকিলাব
২. আব্দুস সালাম, উপজেলা সংবাদদাতা, বিশ্বনাথ (সিলেট)
৩. নুরুল হক (৫৫), পিতা মৃত জাবিদ আলী
৪. আঙ্গুর মিয়া (৫৭), পিতা মৃত তজম্মুল আলী
৫. মাছুম আহমদ (৩৪), পিতা মুজিবুর রহমান
৬. তোফায়েল আহমদ (২৫), পিতা মুজিবুর রহমান
৭. আবু শহীদ কামরান (২২), পিতা নুরুল হক
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, আসামি আবু শহীদ কামরান ফেসবুক আইডি থেকে মানহানিকর সংবাদটি পোস্ট করেন। মাছুম আহমদ ও তোফায়েল আহমদ তা শেয়ার করে আরও ছড়িয়ে দেন।
মামলাটি দণ্ডবিধির ধারা ৫০০, ৫০১, ৫০২, ১২০(বি), ৩৪ ও ১১৪ অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে। বাদী দাবি করেছেন, আসামিরা প্রকৃত সত্য জানার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত মানহানি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫০ কোটি টাকা দাবি করেছেন। বাদীর পক্ষে তিনজন সাক্ষী আদালতে নাম উল্লেখ করেছেন:
- সাজ্জাদুর রহমান
- জিহান আহমদ
- জুবায়ের আহমদ
এডভোকেট শামীম আহমদ বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা কিন্তু এর নামে হলুদ সাংবাদিকতা করে কারও সম্মানহানি করলে আদালতের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পরিকল্পিত। আমি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।

