বাংলাদেশে শান্তি ও জননিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১০৭ ও ১১৭ ধারা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। এই ধারাগুলো সরকারের কাছে ক্ষমতা দেয় এমন ব্যবস্থা গ্রহণের, যাতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষের প্রশান্তি রক্ষা করা যায়।
১০৭ ধারা কী?
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১০৭ ধারার আওতায়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানতে পারেন যে কোনো ব্যক্তি সম্ভাব্যভাবে শান্তিভঙ্গ করতে পারে বা সাধারণের প্রশান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, শান্তি রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তাহলে তিনি সেই ব্যক্তিকে এক বছরের মধ্যে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকা দিতে বা জামিনদারসহ ব্যবস্থা নিতে পারেন।
ব্যক্তিকে অবশ্য কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়, অর্থাৎ কেন তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা তিনি আদালতে ব্যাখ্যা করতে পারবেন। ১০৭ ধারা মামলা মূলত প্রিভেন্টিভ বা প্রতিরোধমূলক মামলা অর্থাৎ, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে শঙ্কা থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে কোনো অপরাধ প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—পারিবারিক বিবাদ, জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, হুমকি বা সামাজিক উত্তেজনা। এটি মূলত অপরাধ প্রতিরোধমূলক, শাস্তিমূলক নয়।
১১৭ ধারা: অনুসন্ধান ও শর্তবদ্ধ মুচলেকা:
ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৭(৩) ধারা হলো ১০৭ ধারার অনুসন্ধান ও শোনানির ধাপ। এতে বলা হয়েছে, যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে শান্তিভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, বা জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, তিনি লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শুনানি চলাকালীন মুচলেকা বা জামিনদারসহ শর্ত দিতে পারেন।
যদি কেউ আদালতের এই আদেশ অমান্য করে, যেমন মুচলেকা না দেওয়া বা শর্ত ভঙ্গ করা, তবে Code of Criminal Procedure (CrPC 122) ধারার আওতায় সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।
১০৭ ধারার আওতায় মামলা কাদের বিরুদ্ধে হয়?
১০৭ ধারার মামলা করা হয় তাদের বিরুদ্ধে যাদের আচরণ, হুমকি বা কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। এর লক্ষ্য হলো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে সতর্কতা নিলে সমাজে উত্তেজনা ও সংঘাত রোধ করা।
১১৭ ও ১০৭ ধারার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রশাসন এবং আদালত সমাজে শান্তি ও জননিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। এই ধারা শুধু অপরাধ ঘটার পর শাস্তি দেয় না, বরং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত ও উত্তেজনা প্রতিরোধ করে। একদিকে এটি সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে সমাজে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ১০৭ ও ১১৭ ধারাকে প্রিভেন্টিভ আইন হিসেবে দেখা হয়, যা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য হাতিয়ার।

