পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশের সক্ষমতা অর্জন এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর পুলিশ ভঙ্গুর অবস্থায় থাকলেও এক বছরের মধ্যে অনেক উন্নতি হয়েছে।
আইজিপি বলেন, “আমরা চাই অন্তত নির্বাচনটাকে উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা হোক।”
মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এসব মন্তব্য করেন। নির্বাচন চ্যালেঞ্জ বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট দলের সদস্য ও সমর্থকরা এখনও বিরোধী শক্তি হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদের মোকাবিলা করা একটি চ্যালেঞ্জ।
মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলছে। আইজিপি বলেন, “১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।”
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও মামলার পরিস্থিতি:
- সারাদেশে ৩১ হাজার ৬০৬টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- ৪৯টি ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও কোনো বড় বিপত্তি হয়নি। ১৫টি মামলা হয়েছে, ১৯ জন গ্রেপ্তার।
- জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় এক হাজার ৭৬৯টি মামলার মধ্যে ৫৫টির চার্জশিট দেয়া হয়েছে।
আইজিপি আরও বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অনেক নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এজন্য সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারার সংযোজন করেছে। আদালত ইতোমধ্যেই ১৩৬ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, আরও ২৩৬ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন।
লুট হওয়া অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড:
- পুলিশ ও র্যাবের অভিযান চলমান। ১ হাজার ৩৫০টি লুট হওয়া অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।
- সাভারে টিটিপির হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, হাজারীবাগ থেকে উদ্ধার হওয়া পুলিশের লুট অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইজিপি ও র্যাবের বক্তব্যে দেখা যায়, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি ও অভিযান তৎপরভাবে চলছে।

