বাংলাদেশের ফৌজদারী কার্যবিধি (Criminal Procedure Code – CrPC) দেশের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এর ৯৮ ধারা বিশেষভাবে তল্লাশি পরোয়ানা জারির নিয়ম নির্দেশ করে। এই ধারা পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে দেয় কখন এবং কীভাবে কোনো স্থান, ঘর বা বস্তু তল্লাশি করা যাবে।
৯৮ ধারার মূল বিষয়বস্তু: ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৯৮ ধারা অনুসারে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট নির্দিষ্ট কারণ দেখলে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
- কোনো স্থানে চোরাই মাল জমা রাখা বা বিক্রয়ের জন্য ব্যবহার।
- জাল দলিল, নকল সীল বা স্ট্যাম্প, অথবা জাল করার যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম রাখা, বিক্রি বা প্রস্তুত করা।
- দণ্ডবিধি ১৯২ ধারায় উল্লেখিত অশ্লীল বস্তু রাখা, বিক্রয়, উৎপাদন বা প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার।
যদি ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখে যে এসব অপরাধমূলক বস্তু কোথাও সংরক্ষিত আছে, তিনি পুলিশকে আইন অনুসারে ক্ষমতা দিয়ে তল্লাশি পরিচালনার অনুমতি দিতে পারেন।
ফৌজদারী কার্যবিধির ৯৮ ধারার প্রক্রিয়া:
- বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা অভিযোগ পেলে ম্যাজিস্ট্রেট তল্লাশি আদেশ জারি করেন।
- পুলিশ তল্লাশি পরিচালনার সময় নির্ধারিত আইন ও নিয়ম অনুসরণ করতে বাধ্য।
- সাক্ষী বা নিরপেক্ষ ব্যক্তি উপস্থিত থাকলে আদালতে প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
- উদ্ধারকৃত বস্তু পরে প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়।
৯৮ ধারা কখন প্রযোজ্য:
৯৮ ধারা কার্যকর হয় যখন ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বাস করেন যে কোনো অপরাধমূলক বস্তু গোপন আছে এবং তা উদ্ধার জরুরি।অর্থাৎ বাংলাদেশের ফৌজদারী কার্যবিধির ৯৮ ধারা প্রযোজ্য হয় যখন কোনো স্থানে চোরাই মাল, জাল দলিল, নকল সীল অথবা কোনো অশ্লীল সামগ্রী জমা রাখা বা বিক্রয় করা হয় বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে। এক্ষেত্রে একজন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট, মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট, বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পর একটি তল্লাশি পরোয়ানা জারী করতে পারেন।
পুলিশের দায়িত্ব ৯৮ ধারায়: বাংলাদেশের ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৯৮ ধারায় পুলিশের সুনির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব উল্লেখ নেই, বরং এটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কোনো ব্যক্তিকে কোনো জিনিস বা দলিল হাজির করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়, যা তল্লাশি পরোয়ানা জারির একটি পর্যায়। এই ধারার অধীনে পুলিশ সাধারণত ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অনুসারে তল্লাশি করতে বা জিনিসপত্র উদ্ধার করতে ভূমিকা পালন করে থাকে, যেমন কোনো শিশুকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
মামলা দায়েরের নিয়ম: বাংলাদেশের ফৌজদারী কার্যবিধির ৯৮ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করতে হলে, কোনো স্থানে চোরাই মাল, জাল দলিল, বা অবৈধ সামগ্রী আছে বলে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকের কাছে একটি দরখাস্ত করতে হবে। বিচারক যদি মনে করেন যে ওই তথ্য সঠিক এবং অনুসন্ধান করা প্রয়োজন, তাহলে তিনি একটি তল্লাশি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারি করবেন, যার মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট স্থান তল্লাশি করে অবৈধ জিনিসপত্র উদ্ধার করতে পারবেন।

