কারাগারে বন্দীদের এখনো বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হলে আদালতের অনুমোদন নিতে হয়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে নতুন রোগের আবির্ভাব, বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ব্যয়ের বৃদ্ধি বিবেচনায় সরকারের পরিকল্পনা বন্দীদের এই সুযোগ সহজ করার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে।
কারা আইন ও বিধির কিছু ধারা সংশোধন হলে বন্দীরা আদালতের অনুমোদন ছাড়াই কারা অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দীদের জন্য এমন ব্যবস্থা করতে গত মাসে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে বলা হয়, জেল কোড ও কারা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা পরিবর্তন করলে বন্দীরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে চলেছে। অনেক সময় অক্সিজেন ও আইসিইউ সেবা প্রয়োজন হয়। সরকারিভাবে সব ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আইন ও বিধি সংশোধন হলে বন্দীরা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। আইজি প্রিজনের চিঠি পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন ও বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেন। তার অংশ হিসেবে আজ সোমবার বেলা ১১টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, “বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এতে অসুস্থ কারাবন্দীরা নানা ধরনের সুবিধা নিতে পারবেন।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বন্দীদের সঠিক চিকিৎসা দিতে পারি না। যাতে তারা সহজে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন, তাই কারাবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে স্বার্থসংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন। হয়তো বর্তমান সরকার কাজটি শেষ করতে পারবে না, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য এটি জরুরি।”
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ৭৪টি কারাগারের মধ্যে ১৪টিতে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। বাকিগুলোর ক্ষেত্রেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সীমিত। নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে অনেক সময় বন্দীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এখন আদালতের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। আইন সংশোধন হলে কারা কর্তৃপক্ষ সরাসরি অনুমোদন দিয়ে বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দিতে পারবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশরাফ-উল-আলম বলেন, “বিদ্যমান কারাবিধি অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বন্দীকে আদালতের অনুমোদন নিতে হয়। আদালত কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চায়। এই অনুমোদনের পর বন্দী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। ধারাসমূহ সংশোধন হলে বন্দীদের চিকিৎসা সহজ হবে।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬৪ সালের কারাবিধির ১২১২, ১২১৩, ১২১৪ নম্বর ধারা এবং ১৮৯৪ সালের কারা আইনের ২৪, ২৬, ৩৮ ও ৩৯ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করতে হবে। বর্তমানে এই ধারা অনুযায়ী মেডিকেল অফিসারের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার বা জেলা কারাগারের সুপারের অনুমোদন সাপেক্ষে বন্দীদের সরকারি হাসপাতাল বা কারা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

