ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বর্তমান পদ্ধতি হলো ফাঁসি, যা অনেক সময় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। তবে ভবিষ্যতে এটি আরো মানবিকভাবে করা সম্ভব হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার মন্তব্য করেছেন, যে ফাঁসির বদলে প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা গ্যাস চেম্বারের মতো তুলনামূলক কম যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা। তিনি আদালতে বলেন, ফাঁসি অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং মৃত্যুর সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত ধরে যন্ত্রণার কারণ হয়। তিনি আরো বলেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে মানবিক পদ্ধতি। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪৯টিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
আবেদনকারীর যুক্তি, ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে জীবনের মর্যাদা রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি আরো বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বিকল্প পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট সোনিয়া মাথুর জানান, ফাঁসির বিকল্প হিসেবে ইনজেকশন বা অন্যান্য পদ্ধতি চালু করা এখনও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বাইরে। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সরকার বিষয়টি সময়ের সঙ্গে খতিয়ে দেখুক।
বিচারপতি মেহতা বলেন, “সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও পরিবর্তিত হয়েছে। সমস্যা হলো সরকার এখনো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে প্রস্তুত নয়।”
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

