ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের (ডিএসএ) অধীনে চলমান সব মামলা ডিসেম্বরের মধ্যেই নিষ্পত্তি হতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, শুধু আইন বাতিল করলেই হবে না, সরকারকে নিবর্তনমূলক আচরণ থেকেও সরে আসতে হবে।
আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সাংবাদিকদের ওপর নিবর্তনমূলক আচরণের প্রবণতা সব সরকারের মধ্যেই দেখা যায়। তিনি বলেন, “সরকারকে শুধু আইন বাতিলের দিকে মনোযোগ দিতে হবে না, সাংবাদিকদের প্রতি অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত চাপও কমাতে হবে।”
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ডিএসএ’র অধীনে দায়ের হওয়া ২২২টি মামলা বিশ্লেষণ করেছে। এই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় ৩৯৬ জন গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, মামলা সংখ্যার পাশাপাশি নতুন সাইবার সিকিউরিটি আইনেও কিছু নিবর্তনমূলক ধারা রয়ে গেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, ডিএসএ বাতিল হলেও নতুন আইন বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রেখে দিয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের প্রকাশনামূলক কাজ এবং অনলাইন প্রকাশনা সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন আইনে নিয়ন্ত্রণমূলক ধারাগুলো এখনও রয়েছে। তারা মনে করেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনমত প্রকাশের সুযোগকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, “সরকারকে এই আইন সংশোধন বা বাতিলের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর চাপ কমানোর দিকেও নজর দিতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষাই আমাদের সকলের মূল দায়িত্ব।”
সাংবাদিক ও গবেষকরা আশা করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই ডিএসএ মামলার সমাধি হলে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, নতুন সাইবার আইনেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

