ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩৮৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করায় সালমান এফ রহমানসহ বেক্সিমকো গ্রুপের সাতজন পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৫ এর বিচারক মুজাহিদুর রহমান আজ (বৃহস্পতিবার) এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে, আসামিরা সমন পাওয়ার পরও আদালতে হাজির হননি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়া সত্ত্বেও উপস্থিত না হওয়ার কারণে আদালত দেশত্যাগ রোধের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অন্যরা হলেন- পরিচালক এএসএফ রহমান, ইকবাল আহমেদ, বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী, পরিচালক আবুবকর সিদ্দিকুর রহমান ও রীম এইচ শামসুদ্দোহা। এ ছাড়া আরও কয়েকজন পরিচালকও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বর্তমানে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদি তারা বিদেশে চলে যেতে সক্ষম হন, তাহলে বিপুল পরিমাণের খেলাপি ঋণ আদায় বাধাগ্রস্ত হবে। এ কারণে আদালত বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন)-কে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসামিরা দেশ ছাড়তে না পারে।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপট হলো, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই মামলাকে নজির হিসেবে দেখছে, যাতে ভবিষ্যতে ঋণ ফেরত না দেওয়ার প্রবণতা রোধ করা যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে এটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক। আদালতের কঠোর অবস্থান প্রমাণ করছে যে, বড় উদ্যোক্তাদেরও আইনের আওতায় আনতে সরকার ও বিচার ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে। এই আদেশের ফলে বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালকদের বিদেশ যাত্রা স্থগিত হবে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যকরতা বাড়বে।

