সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচারকদের অনেক অভিমতই রাষ্ট্র ও ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আগামী ২৭ ডিসেম্বর ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসরের আগে গতকাল রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে দেওয়া বিদায়ী অভিভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে বিচার বিভাগ অসাংবিধানিক ক্ষমতা, অপশাসন ও রাষ্ট্রীয় কৌশলের সহায়তাকারী হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। অনেক বিচারক দুঃশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন নৈতিক বিচ্যুতি জনসাধারণকে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের পথে ধাক্কা দিয়েছে।
তিনি দেশের সকল বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান, জ্ঞান অর্জন ও পাঠাভ্যাসকে জীবনের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে। অধ্যয়ন, গবেষণা ও বিচারচর্চার অভিজ্ঞতা বাড়াতে সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রাখার পরামর্শ দেন। শুধু কাজ সম্পাদন নয়, বরং কাজের উৎকর্ষ সাধনই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সাধারণ পড়াশোনার বাইরে গিয়ে সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তা বিষয়ে জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ-বিজ্ঞান, সাইবার নিরাপত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান। কারণ মানুষের জীবনের যেকোনো ঘটনা আদালতে আসতে পারে এবং সেই সময় বিচারকদের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা হবে।
তিনি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার গুরুত্বও উল্লেখ করেন। পৃথক সচিবালয় ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অসৎ বিচারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যায়ের জন্য অন্যকে দোষারোপ করা বন্ধ করতে হবে। জনগণের জন্য দ্রুত সুবিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও বিচারকদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। শুধু ক্ষমতাবানদের সুবিধার জন্য দায়িত্ব পালন করলে বিচার বিভাগের অস্তিত্ব অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়। বিচারকদের সুনীতি ও সুবিবেচনার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিদায়ী অভিভাষণে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দেশের জেলা ও মহানগর জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা।

