সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে কর্মরত বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী কে বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। একই দিনে তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। এরই মধ্যে অর্ন্তবর্তী সরকার নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণে ইতোমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে।
গত বছরের ১১ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বার্ষিক ছুটি চলায় গত বৃহস্পতিবার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। ওইদিন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অবসর গ্রহণের আগে ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তার বিদায়কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল—কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি। অবশেষে সেই কৌতূহলের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নিয়োগের মধ্য দিয়ে।
জীবন ও শিক্ষাজীবন:
বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর আদি পৈতৃক নিবাস বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামে। তিনি ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং তিনি নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি অনার্স ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তার বাবা প্রয়াত এএফএম আবদুর রহমান চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন এবং মাতা বেগম সিতারা চৌধুরী।
কর্মজীবন ও বিচারবিভাগে অবদান:
জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে তালিকাভুক্ত হন। দীর্ঘ আইন পেশায় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তাকে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা, প্রশাসনিক আইন ও মৌলিক অধিকারসংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তিতে যুক্ত ছিলেন। তার বিচারিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, আইনি বিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
২০১০ সালে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের সঙ্গে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশে তিনি কোনো সরকারি কর্মচারীকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি রাখা অবৈধ ঘোষণা করেন। এই রায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সরকারি কর্মব্যবস্থাপনায় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। পরদিন ১৩ আগস্ট তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
একই বছরের আগস্ট মাসে তিনি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন -এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিচারিক বয়সসীমা অনুযায়ী তিনি ২০২৮ সালের ১৮ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।

